মাত্র ১১ বছর আগের কথা বলছি, বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার, মাধবদী পৌরসভার জনাব এমদাদুল্লাহ নকিব সাহেবের জীবনে ঘটে যাওয়া একটি শিক্ষণীয় ঘটনা । সেইবার তিনি মক্কাতে গেলেন এবং মাসজিদুল হারামের নিকট একটি দোকান থেকে কিছু সদাই কিনে নিয়ে হোটেল/বাড়িতে ফিরলেন, পরে তিনি খেয়াল করে দেখলেন যে একটি খরচ তিনি অযথাই কিনে এনেছেন, তাই মনঃস্থির করলেন তিনি আবার দোকানে গেলে ওই জিনিস টা ফেরত দিয়ে অন্যকিছু কিনে আনবেন।
পরবর্তিতে নকিব সাহেব দোকানে গিয়ে বলা মাত্র দোকানের মালিক অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তাঁর ওই সদাই টা ফেরত নিয়ে টাকা দিয়ে দিলেন । জনাব নকিব সাহেব ও তাঁর সফর সঙ্গীরা সেই দোকানের মালিকের এমন সুন্দর ব্যবহারে অভিভূত হয়ে নিজেরা নিজেদের দিকে তাকিয়ে বিস্মিত হলেন। তাঁরা সবাই সেই দোকানের মালিকের সাথে সৌজন্যতা শেষ করে এই নিয়াত করেই বের হলেন যে, পরবর্তিতে তাঁরা অবশ্যই ওই দোকান থেকেই সদাই করবেন ।
কিন্তু আশ্চর্য্য ব্যাপার হলো তাঁরা এর পর প্রায় ৩/৪ বার ওই দোকানের সামনে গেলেও দোকান টা তাঁরা বন্ধই পেলেন । ভাগ্যক্রমে সেই দোকানের মালিকের সাথে তাদের দেখা হয়ে যায় মাসজিদুল হারামে, স্বাভাবিক কারনেই তাঁরা জানতে চাইল কেন তাঁর দোকানটি বন্ধ ? দোকানের মালিক তাঁর পরিচয় দিয়ে বললেন যে, “তিনি একজন শেখ এবং ওই দোকানের চেয়ে অনেক বড় বড় ব্যবসা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন তবুও তিনি দীর্ঘদিন যাবত একটা সুন্নত এর আমল করার জন্য ওই দোকান এ বসতেন আর সেই আমল টা আল্লাহ আপনাদের মাধ্যমেই পুরা করেছেন। তাই ওই দিনের পর থেকে আমি আর দোকানে বসি না।
আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পেল জনাব নকিব সাহেব ও তাঁর সঙ্গীদের কি সেই সুন্নাত যা আমাদের মাধ্যমে আপনার পূরণ হলো ??
শেখ বললেন, “ আল্লাহর রাসুল সাঃ এর একটি কঠিন নির্দেশ যারা ব্যবসা করবেন তাঁদের কাছে যদি কোন ক্রেতা তাঁর বিক্রিত মাল ফেরত নিয়ে আসেন তাহলে যেন, সেই মালের পরিবর্তে মাল না দিয়ে বরং টাকা ফেরত দিয়ে দেন।” আর আমি এই একটি সুন্নাত কে আমার জীবনে পালন করার জন্যই ওই দোকানটি শুরু করেছিলাম যেহেতু আল্লাহ আমাকে সেই সুন্নাত কবুল করেছেন তাই আমার আর ওই দোকানের কোন প্রয়োজন নাই।
আমরা অনেকেই এমন অনেক হাদিস জানি যা কখনও অনুসরণ করি না অথচ দুনিয়ার উন্নত দেশগুলোর অমুসলিম মানুষগুলো রাসুল সাঃ এর এই সুন্নতের উপর আমল করে তাঁরা আজ সফল হয়ে যাচ্ছেন অথচ একটি ছোট্ট সুন্নাত এর কারনেও আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা দিতেই পারেন ।
তার প্রমাণস্বরূপঃ সেই নকিব সাহেবের সুযোগ্য ভাতিজা আমার প্রান প্রিয় ফারুক ভাই সেই ঘটনাটি শোনার পর থেকেই নিয়াত করেছিলেন যে আল্লাহ তাঁকে কোনদিন এমন ব্যবসা করার সুযোগ দিলে তিনি এই আমলটি করবেন ।
ছবিটিতে তাঁর দোকানের একটি বিলের কপি, ভালো করে খেয়াল করেন, সবাই যেখানে তাদের বিলের কপিতে লিখে দেন “ বিক্রিত মাল ফেরত নেয়া হয় না ” আর সেই জনতা স্টোর এর ফারুক ভাই কি লিখেছেন ??
আসল মুসলমান হবার জন্য নামের আগে মোহাম্মদ লাগানো জরুরী নয় । “শ্রীঃ রাজীব ঠাকুর” নামের মানুষটাও মুসলমান হতে পারে । আলহামদুলিল্লাহ, সত্যিই আল্লাহ তাঁকে খুব অল্প সময়ের ভিতর ছোট্ট একটি মুদির দোকান থেকে অনেক বড় একটি মুদির দোকানে পরিবর্তন করে দিলেন।
এখন এক দোকানেই সব কিছু পাওয়া যায়, আল্লাহ তাঁকে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল করুন। আমিন ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন